মানুষের যে কোন বিপদ ও দুঃখ লাঘব হয়ে যাবে
আবু বকর আস-সিদ্দীক (রাযি.) থেকে বর্ণিত, যখন তাঁর মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এল, তখন তিনি তাঁর মেয়ে আয়েশা (রাযি.)-এর কাছে একজন বার্তা পাঠিয়ে বললেন: হে আয়েশা! আমি তোমাকে খেজুরের কিছু ওসফা (ভাগ) দিয়েছিলাম। তবে আমি বুঝতে পেরেছি যে তুমি তা গ্রহণ করেছ। এখন এটি উত্তরাধিকারীদের সম্পদ। আর উত্তরাধিকারীরা হলেন তোমার ভাই এবং তোমার দুই বোন। (তখন তার স্ত্রী গর্ভবতী ছিলেন।)
আয়েশা (রাযি.) কাঁদতে শুরু করলেন। আবু বকর (রাযি.) তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: তুমি কেন কাঁদছো? তিনি বললেন: আপনার বিচ্ছেদে কষ্ট পাচ্ছি।
তখন আবু বকর (রাযি.) বললেন: হে আয়েশা! আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত রয়েছে যা মানুষের ওপর আসা সমস্ত বিপদ ও দুঃখ লাঘব করে দেয়। সেটি হলো:
‘يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ’
(হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় কর এবং মুসলিম থাকা অবস্থায় ছাড়া মৃত্যু বরণ করো না।
তাই দুঃখ করো না, হে আয়েশা! আর কখনো রিজিকের জন্য শঙ্কিত হয়ো না। যে কেউ এই আয়াত পড়বে, তার জন্য সমস্ত বিপদ হালকা হয়ে যাবে।
সূরা নাস ও ফালাক দ্বারা নবীজি (সা.) যেভাবে রুকইয়াহ করতেন
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ অসুস্থ হতেন, তিনি সূরা “কুল আউজু বিরাব্বিল ফালাক” এবং “কুল আউজু বিরাব্বিন নাস” তিলাওয়াত করতেন, তারপর নিজের হাতে ফুঁ দিতেন এবং ব্যথার স্থানে হাত বুলিয়ে দিতেন। এতে তিনি সুস্থ হয়ে যেতেন।
তবে যখন তার অসুস্থতা তীব্র হয়ে যায়, তখন আমি (আয়েশা) তার হাত ধরে ওই দুই সূরা তিলাওয়াত করতাম এবং তার শরীরে বুলিয়ে দিতাম, এই আশায় যে এ দুই সূরার বরকত তার উপর বর্ষিত হবে।
এরপর যখন আমি তার কপাল ঘামে ভিজে যেতে দেখি, তখন তাকে বলতে শুনি: আর-রফিকুল আ’লা” (অর্থাৎ, সর্বোচ্চ সঙ্গী)। তখন আমি বুঝে যাই তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। কারণ তিনি বলতেন: কোনো নবী মৃত্যুবরণ করেন না, যতক্ষণ না তাকে এই দুই বিষয়ের মধ্যে পছন্দ করার সুযোগ দেওয়া হয়: দুনিয়ার জীবনের সৌন্দর্য এবং যা আল্লাহর নিকট রয়েছে। আর তিনি সর্বদা আল্লাহর সান্নিধ্যকেই পছন্দ করতেন। (বর্ণনা: সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম)
যেভাবে রুকইয়াহ করবেন
যে ধরনের রোগীই আপনার কাছে আসুক আমার মনে হয় তাকে এই রুকইয়াহটি সর্বপ্রথম করা দরকার তাহলে এই রুকইয়াহ এর বরকতে আপনার রোগী দ্রæত সুস্থ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
জিনের রোগী হোক বা যাদুর বা যে কোন রোগী হোক যে স্থানে সমস্যা সে স্থানে হাত রেখে সুরা ফালাক ও নাস তিন বার করে পাঠ করে ফুঁক দিবেন। যদি জিনের রোগী হয় তাহলে তার মাথার উপর হাত রেখে রুকইয়াহ করবেন। রোগী মহিলা হলে মহিলাকেই তার সমস্যার স্থানে হাত রাখতে বলবেন আর আপনি সূরা দুটি তিন বার করে পাঠ করে ফুঁক দিবেন। ইনশাআল্লাহ সমস্যা অতিদ্রæত সমাধান হয়ে যাবে।
সূরা দুটি এই
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
قُلْ اَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِۙ۱ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَۙ۲ وَ مِنْ شَرِّ غَاسِقٍ اِذَا وَقَبَۙ۳ وَ مِنْ شَرِّ النَّفّٰثٰتِ فِی الْعُقَدِۙ۴ وَ مِنْ شَرِّ حَاسِدٍ اِذَا حَسَدَ۠۵(তিন বার)
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
قُلْ اَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِۙ۱ مَلِكِ النَّاسِۙ۲ اِلٰهِ النَّاسِۙ۳ مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ ۙ۬ الْخَنَّاسِ۪ۙ۴ الَّذِیْ یُوَسْوِسُ فِیْ صُدُوْرِ النَّاسِۙ۵ مِنَ الْجِنَّةِ وَ النَّاسِ۠۶ (তিন বার)
এই তিনটি সূরার বিষয়ে অনেক হাদিস পাওয়া যায়
তার মধ্য থেকে দুটি উল্লেখ করা হলো
(১) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে খুবাইব আল-আসলামী (রা.) থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে বললেন, কুল হুয়াল্লাহু আহাদ এবং সূরা ফালাক ও সূরা নাস সন্ধ্যা ও সকালে তিনবার করে পড়বে। এটা তোমাকে সবকিছু থেকে সুরক্ষা দেবে।
(বর্ণনা করেছেন আহমদ ৫/৩১২, আবু দাউদ ৫০৮২, তিরমিজি ৩৫৭৫, নাসাঈ ৮/২৫০-২১৫,
(২) হযরত উক্ববাহ ইবনে আমের (রা.) থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে বললেন, হে উক্ববাহ! আমি কি তোমাকে কুরআনের শ্রেষ্ঠ দুটি সূরা শিখাবো না? তিনি বলেন, ‘কুল আউজু বিরাব্বিল ফালাক এবং কুল আউজু বিরাব্বিন্নাস। হে উক্ববাহ! যখনই তুমি ঘুমাবে এবং জাগবে তখন এগুলো পড়বে। কারণ এগুলোর মত আর কিছু নেই, যেগুলো দিয়ে কেউ কিছু চাইতে পারে বা সুরক্ষা প্রার্থনা করতে পারে। (সহীহ মুসলিম ৮১৪, আহমদ ৪/১৪৪, ১৪৮, ১৫০, ১৫২, ১৫৩)।

Comments (0)