বইটির নামঃ
জিনকে বশ করার আমল
বইটির লেখকের নামঃ
মুফতী নাঈমুল ইসলাম ফরিদপুরী
বইটির পৃষ্ঠাঃ ৩২
বইটি লেখার কারণ
জিনকে বশ করার আমল
এই গ্রন্থটি রচনার পেছনে রয়েছে বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং সাধারণ মানুষকে প্রতারণা থেকে রক্ষা করার আন্তরিক প্রচেষ্টা। ২০১৯ সাল থেকে বহু আলেম-ওলামা আমার সঙ্গে চিকিৎসা, রুকইয়াহ ও তদবীর বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করতে আসেন। তাঁদের মধ্যে অনেক সরলমনা, আল্লাহভীরু ও নিষ্ঠাবান আলেম ছিলেন। দীর্ঘ আলোচনায় তাঁরা চিকিৎসা জগতের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরতেন। এসব আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল—“জিনকে বশ করার আমল”।
অনেকেই জানান, তারা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে শুনেছেন যে বিশেষ কিছু আমলের মাধ্যমে জিনকে অনুগত করা যায়। এসব আমল সংগ্রহের আশায় তারা দীর্ঘদিন মানুষের পেছনে ঘুরেছেন, প্রচুর সময় ব্যয় করেছেন, এমনকি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থও প্রদান করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রকৃত কোনো উপকার পাননি। কেউ কেউ কয়েক হাজার, এমনকি ত্রিশ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় করেছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে কিছু অস্পষ্ট চিহ্ন, দুর্বোধ্য নকশা বা অর্থহীন কাগজপত্র, এবং বলা হয়েছে—“এগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী আমল।”
এসব ঘটনা আমাকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে। তখন মনে হলো, এ বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করা দরকার। কেউ এসব আমলের বাস্তবতা সম্পর্কে যে মতই পোষণ করুন না কেন, অন্তত সাধারণ মানুষ যেন প্রতারণা, অর্থের অপচয় এবং ভিত্তিহীন দাবির ফাঁদ থেকে রক্ষা পায়।
এই উদ্দেশ্যে আমি বিষয়টি নিয়ে গবেষণা শুরু করি। প্রথমদিকে এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য বাংলা গ্রন্থ সহজে খুঁজে পাইনি। পরে বিভিন্ন উৎস অনুসন্ধান করি এবং অনলাইনে প্রচারিত বহু আলোচনা পর্যালোচনা করি। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তথ্য ছিল অপর্যাপ্ত বা অপ্রমাণিত। অবশেষে আমি আরবি ভাষায় রচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের সন্ধান পাই—وقاية الإنسان من الجن والشياطين। সেখানে এ বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা দেখতে পাই। সেখান থেকে প্রাসঙ্গিক বিষয়সমূহ বাংলা ভাষায় সংকলন করে প্রস্তুত করি “জিনকে বশ করার আমল”।
গ্রন্থটি সংকলনের প্রাথমিক পর্যায়ে মূলত তথ্য সংগ্রহ ও উপস্থাপনার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে এ বিষয়ে ফতোয়া ও তাহকীক করা হয়। Darul Uloom Deoband থেকে প্রাপ্ত একটি ফতোয়ায় নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে বিষয়টির অনুমোদনের কথা উল্লেখ থাকলেও, পরবর্তীতে এ বিষয়ে বহু আলেমের মধ্যে মতানৈক্য প্রকাশ পায়।
এছাড়া বইটিতে উল্লেখিত কিছু দোয়া ও আমলের মধ্যে এমন কিছু শব্দ রয়েছে যেগুলোর অর্থ স্পষ্ট নয়; কিছু স্থানে এমন বাক্যও পাওয়া যায় যেখানে গায়রুল্লাহর নামে কসমের মতো বিষয় রয়েছে। এসব কারণে আমি পাঠকদেরকে এ বইয়ের আমলগুলো বাস্তবে প্রয়োগ করার জন্য উৎসাহিত করি না।
তবে যারা কেবল গবেষণা, তথ্য-অনুসন্ধান বা বিষয়টি সম্পর্কে জানার উদ্দেশ্যে অধ্যয়ন করতে চান, তারা বইটি পড়তে পারেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো: চিকিৎসা, রুকইয়াহ ও তদবীরের ক্ষেত্রে সফলভাবে কাজ করার জন্য জিনকে বশ করা মোটেই অপরিহার্য নয়। জিনকে বশ না করেও কুরআন, সুন্নাহ, দোয়া, যিকির এবং অভিজ্ঞতালব্ধ বহু বৈধ পদ্ধতির মাধ্যমে মানুষের চমৎকার সেবা ও উপকার করা সম্ভব।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সহীহ জ্ঞান, সঠিক আমল এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করার তাওফীক দান করুন। ইনশাআল্লাহ।
সূচিপত্র
জিনকে বশ করার আমল….
যে কোন আমলের জাকাত আদায় করার সহজ উপায়……
জাকাতের পদ্ধতির বর্ণনা,
জিনকে বশ করার এক নাম্বার উপায়
জিনকে বশ করার দ্বিতীয় পন্থা
জিন বশ করার তৃতীয় পন্থা
জিন বশ করার চতুর্থ পন্থা.
জিন বশ করার ৫ নং পন্থা
জিনকে বশ করার ৬ নং পন্থা
জিনকে বশ করার ৭নং পন্থা
জিনকে বশ করার ৮ নং পন্থা
জিনকে বশ করার ৯ নং পন্থা.
জিনকে বশ করার ১০ নং পন্থা
জিনকে বশ করার ১১ নং পন্থা
জিনকে বশ করার ১২ নং পন্থা
জিনকে বশ করার ১৩ নং পন্থা.
জিনকে বশ করার ১৪ নং পন্থা
কারীন জিনকে বশ করার পন্থাঃ-
জিনকে বশ করার ১৫ নং পন্থা
ওয়াশওয়াশ জিনকে হাজির করার উপায়ঃ-
জিনকে বশ করার ১৬ নং পন্থা…
জিনকে বশ করার ১৭ নং পন্থা
জিনকে বশ করার ১৮ নং পন্থা।
জিনকে বশ করার ১৯ নং পন্থা
জিনের বাদশাকে বশ করার আমল,
জিনকে বশ করার ২০ নং পন্থা.
মুয়াক্কেল দ্বারা প্রতিটি জায়েয কাজ পূর্ণ করার উপায়
জিনকে বশ করার ২১ নং পন্থা
যে কোন সময় মুয়াক্কিল হাজির করার আমল..
জিনকে বশ করার ২২ নং পন্থা..
রুকাইয়াইল নামক মুয়াক্কিলকে হাজির করার উপায়,
আমলের নিয়মঃ-
জিনকে বশ করার ২৩ নং পন্থা
সূরা মুয্যাম্মিল দ্বারা জিন হাজির করার উপায়
জিনকে বশ করার ২৪ নং পন্থা.
সূরা জিন দ্বারা জিনকে বশ করার উপায়.
জিনকে বশ করার ২৫ নং পন্থা
মুমিন জিন হাজির করার উপায়ঃ-
শেষ কথা












Be the first to review “জিনকে বশ করার আমল”